Five Rocks In Scouting

পঞ্চশিলা

স্কাউটিংয়ে রোভারিং হলো বয়োজ্যেষ্ঠ শাখা। সাত বছরে পদার্পনের পর থেকেই একজন বালক/বালিকা স্কাউট আন্দোলনের কাব শাখায় প্রবেশ করে স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এগার বছর পার হলেই সে স্কাউট শাখায় প্রবেশ করে। এ পর্যায়ে তার বয়স ও কর্মক্ষমতার আলোকে স্কাউট কার্যক্রম উপস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়। ষোল বছর বয়স পর্যন্ত সে ঐ একই কর্মসূচীতে কাজ করে। কিন্তু সতেরতে পদার্পনের সাথে সাথে সে আর স্কাউট শাখায় থাকতে পারে না। তাকে প্রবেশ করতে হয় রোভার শাখায়। বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে বয়স উপযোগী করে বিন্যাস করা হয়েছে স্কাউটিংয়ের সর্বশেষ শাখা রোভার স্কাউটিং। রোভার স্কাউটিংকে বলা হয় Brotherhood of open air and Service.

স্কাউটিংয়ের এই পর্যায়ে রোভার শাখায় রয়েছে মুক্তাঙ্গণের কার্যাবলী সম্বলিত আনন্দদায়ক বিশেষ কিছু কার্যক্রম যার মাধ্যমে সেবা, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল তাঁর “রোভারিং টু সাকসেস” বইয়ের মাধ্যমে তাঁর রোভারিংয়ের চিন্তাধারাকে লিপিবদ্ধ করেছেন। অপূর্ব চিন্তাধারায় রচিত যুবকদের জন্য লেখা তাঁর এই বই। তিনি বইটির প্রচ্ছদে এ বইয়ের মূল ভাব ব্যক্ত করেছেন। এক স্রোতস্বিনী পাহাড়িয়া নদীতে একটা ছোট্ট ডিংগী নৌকায় চড়ে দুই হাতে কঠিনভাবে বৈঠা আকড়ে ধরে স্রোতের উজানে বয়ে চলেছে এক যুবক। সামনে উদীয়মান সূর্য আর ঘন শ্যামল পার। মাঝে মধ্যে সামান্য মুখতুলে আছে পাঁচটি শিলাখন্ড, এর যে কোন একটার সাথে আঘাত লাগলে খন্ড বিখন্ড হয়ে তলিয়ে যেতে পারে সেই ডিংগীটা।

রোভার স্কাউটিংকে বলা হয় Brotherhood of open air and Service.

বইটিতে বিপি ডিংগীর সাথে যুবকের জীবনের এবং নদীর স্রোতের সাথে সময়ের তুলনা করেছেন। আর ঐ শিলাখন্ডগুলির নামকরণ করেছেন। সেগুলোঃ

১) Horses (জুয়া), 
২) Wine (নেশা), 
৩) Women (যৌন আকাঙ্খা), 
৪) Cuckoos & Humbugs (শঠতা) ও 
৫) Irreligion (নাস্তিকতা)। 
বিপি ডিংগীর সাথে যুবকের জীবনের এবং নদীর স্রোতের সাথে সময়ের তুলনা করেছেন।

একজন যুবক তার দৈনন্দিন জীবনে উল্লিখিত যে কোন একটি প্রতিবন্ধকতার সংস্পর্শে এলে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে; জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরূপ ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় জীবনের গতিধারা বাঁধাগ্রস্ত হয়ে অপ্রত্যাশিত দিকে মোড় নেয়। তাই একজন যুবক/যুবতীকে এ বাঁধাসমূহ অতিক্রম করে জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে বিপির মূল চিন্তাধারার উপর ভিত্তি করেই রোভার প্রোগ্রাম প্রতিষ্ঠিত।

স্কাউটিং আন্দোলন আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান করে। এর মাধ্যমে একজন ছেলে বা মেয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। একজন স্কাউট এগিয়ে যায় সকলের সাহায্যে। কোন কিছু প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয়, মানবতার টানে। কাউকে রাস্তা পার করে দেয়া থেকে দুর্ঘটনায় কবলিত কোন বাক্তিকে সর্বচ্চ সহায়তা করতে দ্বিধাবোধ করে না সে। যে কোন বিপদে বিচলিত না হয়ে ধীরে-সুস্থে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষা যে সে আগেই পেয়ে থাকে স্কাউটিং থেকে।

স্কাউটিং নেতৃত্বদানে করে তোলে পারদর্শী। ছোটবেলা থেকেই একটি দলে থাকার মজা এবং কাজগুলো ভাগ করে নেয়ার শিক্ষা দিয়ে দেয় স্কাউটিং। ফলে কাজটা কিভাবে শেষ করা যাবে কিংবা কাকে দিয়ে করালে ভাল হবে, সেই নেতৃত্ব গুণ থাকে একজন স্কাউট এর। সকলকে বুঝিয়ে এক সাথে কাজ করার আনন্দ স্কাউটিং এ থাকে। ফলে নুতুন করে কোনো কিছুই বুঝে নিতে হয় না, জীবনে সকল কাজেই সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে সে। আবার কারো সাথে থেকেও শেষ করতে পারে যে কোন কাজ।

স্কাউটিং সকলকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। সকল মানবিক গুনাবলি কমবেশি দেখা যায় স্কাউটদের মধ্যে। নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং সকলের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার মন-মানসিকতা থাকে তাদের মধ্যে। ছেলে-মেয়েরা স্কাউটিং এর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠছে আত্মনির্ভরশীল। নানান শিক্ষার মধ্য দিয়ে বাড়ছে তাদের দক্ষতা তাও এক নির্মল আনন্দের মধ্য দিয়ে।

 

Post a Comment

0 Comments